৩০ বছর ধরে শরবত বিক্রি করছেন আজগর আলী

আবুল কালাম আজাদ (সনি): জৈষ্ঠের আগুন ঝরা তাপদাহ চলছে। গরমের তাপে অতিষ্ঠ জনজীবন। প্রখর রোদে দুপুরের বাইরে তাকালেই ঝলসে যায় চোখ। তপ্ত দুপুরের গরমের তীব্রতায় নাগরিক জীবন এখন চরম বিপর্যস্ত। রোদের তেজের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরমের তীব্রতাও। বৃষ্টিহীন বিস্তীর্ণ জনপদে বাড়ছে রোদের প্রখরতা।

ঠিক এমন গরমের সময় শরবতের কথা শুনলেই ভিতর থেকে চলে আসে এক প্রশান্তির বার্তা। সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদ ভাব কাটাতে শরবতের যেন কোন বিকল্পই নেই।

এমন পরিবেশে তেমনই এক প্রশান্তি এনে দিচ্ছে আজগর আলীর বনজ শরবত। আজগর আলী রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি এই শরবত বিক্রি করছেন। বিভিন্ন প্রজাতির বনজও গাছ দিয়ে তিনি এই শরবত তৈরি করে থাকেন। শরবত বিক্রি করে যে অর্থ আয় হয় তাই দিয়েই চলে আজগর আলীর সংসার।

আজগর আলী বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে এই শরবত তৈরি করে বিক্রি করছি। অন্য কোনো কাজে কখনও যাইনি। সব সময়ই ভাল ব্যবসা চলে এমনটা না। শত কষ্টেও পেশাটাকে ধরে রেখেছি। শরবত বিক্রি করে সামান্য যে আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার।

তিনি বলেন, আখের গুড়, তুতমা, ইউসুফ গুলি, ইউসুফ গুলির ভুষি, শাহিদানা, অ্যালেভেরা ও উলটকমল দিয়ে এই শরবত তৈরি করি। এই শরবতের অনেক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে প্রখর রোদে বা তীব্র গরমে এই শরবতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কিন্তু করোনার কারণে এখন চাহিদা অনেক কম।

এদিকে শনিবার বিকালে চারঘাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আড়ানী রোডের এক পাশে শরবত বিক্রি করছেন আজগর আলী। প্রতি গ্লাস বনজও শরবতের দাম ১০ টাকা। পাশাপাশি বেলের মৌসুম হওয়ায় তৈরি করছেন বেলের শরবত।

শরবত পানকারী সাজ্জাদ হোসেন, মুক্তার আলী ও রহমত মিয়া বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে শরবত খেতে আসি। এই শরবত খেয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। বরং যখন খায় তখন অনেক তৃপ্তিতেই খায়।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, বনজ কিংবা বেলের শরবত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করতে হবে। নয়তো পানিবাহিত রোগ হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button