চারঘাটে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

সজিব ইসলাম: পরিবেশবান্ধব ‘মালচিং পদ্ধতি’ ব্যবহার করে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন রাজশাহীর চারঘাটের কৃষক আব্দুল মান্নান। সাধারণত এ পদ্ধতিতে বছরের যেকোনও সময় একাধিকবার তরমুজ উৎপাদন করা যায়।
আব্দুল মান্নান চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ‘মালচিং মেথড’ ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রথম এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে যোগাযোগ করেন। তখন তারা এ পদ্ধতিতে তরমুজ উৎপাদনে মান্নানকে উৎসাহিত করে।
আব্দুল মান্নান ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে তরমুজের বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী মালচিং পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপন করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা নির্মাণ করা হয়। এরপর তরমুজের বীজ সেখানে স্থাপন করা হয়। এবার মালচিং পেপার ছিদ্র করে বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর, তা মাচায় প্রতিস্থাপন করা হয়। যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনও কীট-পতঙ্গ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না। একই কারণে ক্ষতিকর সূর্যালোকও এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময় বৃষ্টি হলে বীজতলা বা ক্ষেত থেকে সার ধুয়ে যায়। মালচিং পেপার দিয়ে মোড়ানো থাকায় এখানে সেই সম্ভাবনাও নেই।
আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে নতুন এই পদ্ধতিতে গাছগুলো দেড়গুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে।’
তিনি বলেন, ‘এবছর আমি মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে (ব্লাক জাম্বো) জাতের তরমুজের বীজ রোপন করেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এ জাতের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে জমি থেকে তরমুজ সংগ্রহ করা যাবে। অসময়ের এ তরমুজ অত্যন্ত সুস্বাদু।
তিনি বলেন, যেহেতু এই পদ্ধতিতে তরমুজ সারা বছর চাষাবাদ করা যায়, তাই  এবারের তরমুজ ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ফের তরমুজের আবাদ শুরু করতে পারবো। মৌসুমের সময় তরমুজের আধিক্য থাকায় কৃষকরা এমনিতেই তরমুজের যথার্থ দাম পান না। যেহেতু এই পদ্ধতিতে যেকোনও সময়ে আবাদ করা সম্ভব, তাই আমার এটুকু জমি থেকেই বছরে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করি।’
মান্নান জানান, তার দেখাদেখি এলাকার আরও ছয় জন কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ শুরু করছেন।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মদ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৫০ ভাগ সার ও কিটনাশকের ব্যবহার কম লাগে, যা পরিবেশবান্ধব। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে ৫/৬ বার সেচ দিতে হয়, সেখানে এ পদ্ধতিতে মাত্র দুবার সেচ দেওয়াই যথেষ্ট। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ আবাদ হলেও চারঘাটে এই প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হলো। মান্নান সফল হলে এ পদ্ধতিতে চাষবাদ আরো জনপ্রিয় হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button