চারঘাটে ভ্যান চালকের অনুদানের টাকায় ভাগ বসালেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লালন আলী। পেশায় একজন ভ্যান চালক। অসুস্থ প্রতিবন্ধী বউ ও দুই ছেলেকে নিয়ে খুপড়ি করে থাকেন। ভ্যান চালিয়ে যা পান, তাই দিয়েই তিন বেলা খাবার ও প্রতিবন্ধী বউয়ের চিকিৎসা খরচ চালান তিনি। 

আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল ভ্যানের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন লালন আলী। কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে থাকেন। এ অবস্থায় চারঘাট-বাঘা আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি তুলে ধরেন। খোঁজ খবর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভ্যানের ব্যাটারি কেনার জন্য চারঘাট পৌর মেয়র একরামুল হকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা অর্থ সহযোগিতা করেন।

মেয়রের বাসা থেকে সহযোগিতার ২০ হাজার টাকা নিয়ে ফেরার পথে ৫ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছেন মাহাতাব সরকার নামের এক ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা। এখন ভ্যানের ব্যাটারি কিনতে পারছেন না লালন আলী। 

এভাবেই এ প্রতিবেদককে ঘটনার বর্ণনা দেন ভ্যান চালক লালন আলী। তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের শামসুল বিশ্বাস ফাগুর ছেলে।

ভুক্তভোগী লালন আলী জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার ২০ হাজার টাকা নিতে চারঘাট পৌর মেয়র একরামুল হকের বাড়িতে যান তিনি। মাহাতাব সরকারও তখন স্থানীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের হাত থেকে টাকা নেওয়ার সময় ছবি তুলে ফেসবুকেও ছাড়েন মাহাতাব।

এরপর টাকা নিয়ে মেয়রের বাসা থেকে বের হলে রাস্তার মাঝখানে লালনকে থামতে বলেন মাহাতাব। এক পর্যায়ে লালনের কাছে থেকে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেন। সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে ১৫ হাজার টাকা ভ্যান চালককে ফেরত দেন তিনি।

পরবর্তীতে ৫ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব সিরাজুল ইসলামকে জানান ভ্যান চালক লালন। জানতে পেরে মাহাতাব আবারও ফোন করে লালনকে হুমকি ধামকি দেয়। একান্ত সচিবকে জানানোর কারনে তার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলে। এ অবস্থায় ভ্যান চালক লালন আলী অসহায় অবস্থায় কথা গুলো সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, মাহাতাব সরকার উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের তোফাজ্জোল হোসেনের ছেলে। তিনি কেশবপুর স্কুল এন্ড কলেজে প্রর্দশক হিসাবে কর্মরত আছেন। আগামী চারঘাট ইউনিয়ন আ’লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাতাব সরকার বলেন, লালনের কাছে থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়নি। আমাদের এক ছেলে অভাব অনটনে ছিল, সেজন্য লালনের টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরে লালনকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাকে কোনো হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার অজানা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে সহযোগিতা চাইলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। বিপদে আপদে তিনি সব সময়ই চারঘাটবাসীর পাশে থাকেন। এ অবস্থায় তার সহযোগিতার টাকা নিয়ে কেউ অনিয়ম করে থাকলে সেটা চরম হতাশজনক। বাংলাদেশ আ’লীগের রাজনীতির সাথে বেমানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button