চারঘাটে বেড়েছে জ্বর-সর্দির রোগী, করোনা পরীক্ষায় নেই আগ্রহ

আবুল কালাম আজাদ (সনি): রাজশাহীর সীমান্তবর্তী চারঘাট উপজেলায় করোনা উপসর্গের রোগী বেড়ে গেছে। এসব রোগীদের জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ নেই।

রোগীরা উপজেলা সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভিড় করছেন। সচেতনতা না থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে।

গ্রামের চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব উপসর্গের কথা নিশ্চিত করেছে।

করোনা মহামারির এই সময়ে সর্দি-কাশি ও জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে সাবধানতা অবলম্বন করা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ফোকাল পারসন ডা. শংকর কুমার জানান, গত ৭ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত উপজেলায় ১০২ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। উপজেলার চারঘাট পৌরসভা, সরদহ ইউনিয়ন ও ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে সংক্রমণের মাত্রা বেশি। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৩২৬ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ৪ দিনে চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ২ জন ডাক্তার, ৩ জন নার্স, একজন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও একজন সিএইচসিপি।

এদিকে ফার্মেসিতে সর্দি-কাশি ও জ্বরের ওষুধ বিক্রি বেড়ে গেছে জানিয়ে চারঘাট ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মাহাবুব আলম মোহন বলেন, এখন চারঘাটের বেশির ভাগ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রোগীর সংখ্যা দুই-তিনগুন বেড়ে গেছে।

শলুয়া বাজারের গ্রাম্য ডাক্তার আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন যেসব রোগী পাচ্ছি তার বেশিরভাগই জ্বর ও সর্দি-কাশির। অনেকের জ্বর ৮-১০ দিনও থাকছে। জ্বর না কমায় তাদের পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

চারঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ভারতের করোনা ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা কঠোর অবস্থানে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রভাব নেই। আর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই করোনা র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। কারও জ্বর সর্দির উপসর্গ পেলেই করোনা পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে। এরপরও অনীহার কারণে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে টেস্টের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button